খ ম জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর
(ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধিঃ
বর্ষা মৌসুমে নতুন রূপে সেজেছে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নে স্থানীয় ডাকবাংলো ঘেঁষে লঙ্ঘন নদীর মাঝে শতবর্ষি ঐতিহাসিক দোল মন্দির, বিস্তীর্ণ জলরাশি, শাপলা-পদ্মে ভরা বিল, সবুজে ঘেরা পরিবেশ এবং পানির মাঝ দিয়ে বয়ে চলে যাওয়া বৃটিশামলে নির্মাণাধীন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের স্মৃতি বিজরিত
ঐতিহাসিক দোলকান্দি মঠ বা মন্দির সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত দর্শনার্থী ভিড় করছেন এখানে।
অনেকেই জায়গাটিকে ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে অভিহিত করছেন। প্রতিদিন বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ জেলার ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসছেন ভ্রমণপ্রেমীরা। কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউ নৌকায় চড়ে বিল ঘুরে দেখছেন, আবার কেউ স্মৃতিবন্দি করছেন মোবাইল ফোন কিংবা ক্যামেরায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতাদের উপস্থিতিও দিন দিন বাড়ছে।
শাপলা-পদ্মে আচ্ছাদিত বিল, ছোট ছোট ডিঙি নৌকা, শীতল বাতাস এবং সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। শিশুদের কোলাহল, পাখির ডাক ও পানির মৃদু ঢেউ মিলিয়ে পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে এক নির্মল ও শান্ত পরিবেশ। কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা বিলকিস আক্তার বলেন, “ শুনেছি নাসিরনগরের ডাকবাংলাে ও নদী বা বিলের মাঝে দোলকান্দির মন্দির ও বটগাছের কথা, এখানে এসে সত্যিই দারুণ লাগছে। পরিবারের সবাই মিলে অনেক সুন্দর সময় কাটিয়েছি। প্রকৃতির এমন সৌন্দর্য মনকে প্রশান্ত করে।
হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলা থেকে আসা ইসরাত জাহান কলি বলেন, “বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে নাসিরনগর ডাক বাংলাে ও এই হাওরে দোলমন্দির দেখতে এসে অনেক আনন্দ করেছি। এর মনোরম পরিবেশে সময়টা খুবই উপভোগ করেছি।”
নৌকার মাঝি বলেন,“বর্ষা এলেই নাসিরনগর ডাকবাংলাে, এই হাওরে মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। এতে নৌকা চালিয়ে আমাদের কিছু অতিরিক্ত আয় হয়।
ভ্রমণ পিপাসুরা বলেন,যথাযথ পরিকল্পনা, পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করা হলে এটি নাসিরনগর উপজেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।”
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বিল এখন মানুষের কাছে একটি জনপ্রিয় ভ্রমণগন্তব্য। স্থানীয়দের আশা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এটি দেশের অন্যতম পরিচিত ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।