খ,ম,জায়েদ হোসেন,নাসিরনগর
(ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধিঃ
ফুটবল বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা শুরু হতেই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় বইচে ফুটবল উন্মাদনার নতুন ঢেউ। ফুটপাত, শপিং মার্কেট, ক্রীড়াসামগ্রীর দোকান এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে এখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দেশের জার্সি, পতাকা, ব্যান্ড ও সমর্থকদের নানা উপকরণ।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এবারও জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল-এর জার্সি।
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলা সদর, ফান্দাউক, চাতলপাড়
হরিপুর, বুড়িশ্বর, কুন্ডা, চাপড়তলা, গুনিয়াউক, চৈয়ারকুড়ি বাজার সহ বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে বাজারগুলো। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই প্রিয় দলের জার্সি ও পতাকা কিনতে আসছেন। বিশ্বকাপকে ঘিরে শিশু,
কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্কদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে ব্যাপক আগ্রহ।
উপজেলার কৃষি ব্যাংক সংলগ্ন সোহেল খেলা ঘর ও আরিফ খেলাঘরে জার্সি কিনতে আসা একাধিক ক্রেতা জানান, পরিবারে ভিন্ন ভিন্ন দলের সমর্থক থাকায় একসঙ্গে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দুই দলের জার্সিই কিনছেন তারা। অনেকেই আবার প্রিয় খেলোয়াড়ের নাম কিংবা নিজের নাম যুক্ত করে বিশেষভাবে জার্সি তৈরি করছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে বিক্রি হওয়া জার্সির প্রায় ৯০ শতাংশই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের। এর বাইরে জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও ক্রোয়েশিয়া-এর জার্সিরও উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে।
তবে বিশ্বকাপের মৌসুমে ইউরোপের জনপ্রিয় ক্লাবগুলোর জার্সির বিক্রি কিছুটা কমে গেছে বলে জানান বিক্রেতারা। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত জার্সির পাশাপাশি চীন ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা জার্সিও পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, দেশীয় জার্সির পাইকারি মূল্য ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং আমদানি করা জার্সির দাম ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। খুচরা বাজারে একই জার্সি আরও কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া জার্সিতে নাম ও নম্বর প্রিন্ট করার জন্য অতিরিক্ত ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ফলে ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী জার্সি কাস্টমাইজ করার প্রবণতাও বাড়ছে।
অনলাইন ব্যবসাতেও দেখা যাচ্ছে একই চিত্র। বিভিন্ন ফেসবুকভিত্তিক ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন শত শত জার্সির অর্ডার আসছে। অনলাইন বিক্রেতারা জানান, ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে অনলাইনে অর্ডার দিয়ে জার্সি কেনার প্রবণতা বাড়ছে।
জার্সির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে নানা আকারের জাতীয় পতাকা। দর্জি ও পতাকা প্রস্তুতকারীরা জানান, সবচেয়ে বেশি অর্ডার আসছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকার।
ফুটবলপ্রেমীরা বলছেন, বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া আসর নয়, এটি এক ধরনের উৎসব। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে জার্সি ও পতাকা কেনা এখন যেন ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে লিওনেল মেসি-র ভক্তদের মধ্যে আর্জেন্টিনার জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের ধারণা, বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বাড়বে জার্সি, পতাকা ও ফুটবলসংশ্লিষ্ট সামগ্রীর বিক্রি। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহ দেশের ক্রীড়াসামগ্রীর বাজারে আরও বড় বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।