স্টাফ রিপোর্টার
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বতারাপাশা এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানা পরিদর্শন করেছেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সফল কমিশনার আরিফুল ইসলাম আরজু। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে পূর্বতারাপাশা ইদ্রিসিয়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে মুসল্লি, যুবসমাজ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সমাজসেবক, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ মাদকবিরোধী পদযাত্রায় অংশ নেন। পদযাত্রাটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রির জন্য পরিচিত কয়েকটি স্থানে যায় এবং সেসব এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়।
কর্মসূচিতে জেলা শ্রমিক দলের নেতা দুলাল, ছাত্রদলের নেতাকর্মী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিক ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করার আহ্বান জানান।
পরিদর্শন শেষে আরিফুল ইসলাম আরজু বলেন, “মাদক আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ ব্যাধি। এটি তরুণদের জীবন ধ্বংস করে, পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করে এবং সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি করে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
তিনি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাদক ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে এবং মাদকের আস্তানা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, মাদক প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এ ব্যাধি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান এবং তাদের চলাফেরা, বন্ধু নির্বাচন ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের প্রতি নজর রাখার পরামর্শ দেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তারা জানান, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে মাদকবিরোধী প্রচারণা, গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, যাতে এলাকার তরুণরা মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা পায় এবং একটি নিরাপদ, সুন্দর সামাজিক পরিবেশ গড়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পূর্বতারাপাশায় এ ধরনের জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা এবং জনগণের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকলে পূর্বতারাপাশাকে একটি মাদকমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ এলাকায় পরিণত করা সম্ভব হবে।