নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) গাড়িচালক কনস্টেবল মেহেদী হাসান স্বপনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের একটি অংশের তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মোছা. মৌসুমি খাতুন।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ‘দৈনিক আনন্দবাজার’ পত্রিকার অনলাইনে ,৬ আগস্ট ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’, দৈনিক ‘সমাচার’পত্রিকার অনলাইনে এবং ‘বাংলা খবর২৪.কম’-সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ”নওগাঁয় হিরোইন ব্যবসায়ী বিধবা নারীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে দেখা করতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন ওসির ড্রাইভার; অডিও ভাইরাল হওয়ায় স্ট্যান্ড রিলিজ” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
উক্ত সংবাদের অনুসন্ধানী অংশে উল্লেখ করা হয়েছিল যে,”অভিযুক্ত এই পুলিশ চালকের বিরুদ্ধে আরও নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। নিয়ামতপুর বাজার এলাকার পালকি সিনেমা হলের পেছনের বাসিন্দা, মাদক ও দেহ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মোছা. মৌসুমি খাতুনের (পিতা-মুনছুর রহমান ওরফে মাইনুল) সঙ্গে তার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। মৌসুমির ভাই মোস্তাফিজুর রহমান সাগরও একজন মাদক ব্যবসায়ী। অভিযোগ রয়েছে, কনস্টেবল মেহেদী নিজের স্ত্রীকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে এই মৌসুমিকে নিজের বাসায় এনে রাত কাটাতেন।”
প্রকাশিত সংবাদের এই অংশটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কাল্পনিক বলে দাবি করেছেন মোছা. মৌসুমি খাতুন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, ওসির ড্রাইভারের বিরুদ্ধে ওঠা প্রশাসনিক অভিযোগ ও স্থানীয় ঘটনার সাথে তাকে অযাচিতভাবে জড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
এক প্রতিবাদ বার্তায় মৌসুমি খাতুন বলেন, “একটি কুচক্রী ও স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে এবং আমার পরিবারকে সামাজিকভাবে অপমানিত ও মানহানি করার উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের ভুল তথ্য সরবরাহ করেছে। ওসির চালকের পুলিশি ঘটনার সাথে আমার কোনো দূরতম সম্পর্ক নেই। আমাকে জড়িয়ে যে পরকীয়া ও অপপ্রচারের খবর পরিবেশন করা হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। আমি এই কুরুচিপূর্ণ সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, ভিত্তিহীন এই সংবাদের কারণে তিনি ও তার পরিবার চরম সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। ভবিষ্যতে যেকোনো সংবাদ প্রকাশের পূর্বে সম্মানিত সাংবাদিকদের সরেজমিনে সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই করে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন পরিবেশনের জোর অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিয়ামতপুর থানার ওসি’র ড্রাইভার কনস্টেবল মেহেদী হাসান স্বপন নিয়ামতপুর কলেজ সংলগ্ন মহিশকুড়ি এলাকার একজন চিহ্নিত হিরোইন ব্যবসায়ী মৃত পলাশের স্ত্রী মোছাঃ নার্গিস খাতুনকে কুপ্রস্তাব দিয়ে দেখা করতে গিয়ে স্থানীয় জনতার হাতে অবরুদ্ধ হন। পরবর্তীতে ফোনালাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।
অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মেহেদী হাসান স্বপন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি নিয়ামতপুর কলেজে সংলগ্ন মহিশকুড়ি এলাকার চিহ্নিত এক নারী মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে স্থানীয়রা তাদের ঘিরে ফেলেন। পরে থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে এবং ঘটনার দেড় ঘণ্টার মাথায় তাকে ভীমপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।