1. admin@moheshpurnews24.com : admin :
April 24, 2026, 2:10 pm
শিরোনামঃ
ঝালকাঠিতে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারের নিয়োগে দোয়া ও মিলাদ নেত্রকোনায় বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় সিজারের পর প্রসুতির মৃত্যুর অভিযোগ টেকনাফে বিদেশি পিস্তলসহ কুখ্যাত মানবপাচারকারী আটক: কোস্ট গার্ডের অভিযান রাজশাহীতে কাটা হল ৩০ কাঠবাদাম গাছ মুগদায় মাদকের ‘ওপেন মার্কেট’: জিম্মি সাধারণ মানুষ ও মুসল্লিরা, নেপথ্যে শক্তিশালী সিন্ডিকেট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চার নারী সংরক্ষিত আসনে এমপি মনোনীত রাজশাহীতে ৩৬ কেজি গাঁজা সহ গ্রেপ্তার ২ জন গাজীপুরের টঙ্গীতে বিদেশি পিস্তলসহ ২ জন গ্রেফতার ‎ গাইবান্ধায় পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধিরলক্ষ্যে কুঠি পাড়ায় মহিলা পরিষদের সভা ​স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গাক’-কে জরিমানা
ব্রেকিং নিউজঃ
ঝালকাঠিতে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারের নিয়োগে দোয়া ও মিলাদ নেত্রকোনায় বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় সিজারের পর প্রসুতির মৃত্যুর অভিযোগ টেকনাফে বিদেশি পিস্তলসহ কুখ্যাত মানবপাচারকারী আটক: কোস্ট গার্ডের অভিযান রাজশাহীতে কাটা হল ৩০ কাঠবাদাম গাছ মুগদায় মাদকের ‘ওপেন মার্কেট’: জিম্মি সাধারণ মানুষ ও মুসল্লিরা, নেপথ্যে শক্তিশালী সিন্ডিকেট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চার নারী সংরক্ষিত আসনে এমপি মনোনীত রাজশাহীতে ৩৬ কেজি গাঁজা সহ গ্রেপ্তার ২ জন গাজীপুরের টঙ্গীতে বিদেশি পিস্তলসহ ২ জন গ্রেফতার ‎ গাইবান্ধায় পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধিরলক্ষ্যে কুঠি পাড়ায় মহিলা পরিষদের সভা ​স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গাক’-কে জরিমানা

নেত্রকোনায় বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় সিজারের পর প্রসুতির মৃত্যুর অভিযোগ

  • Update Time : Friday, April 24, 2026

সোহেল খান দূর্জয়- নেত্রকোনা :
নেত্রকোনায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সিজারিয়ানের জন্ম নেওয়া শিশুটি সুস্থ আছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল তিনটার দিকে শহরের হাসপাতাল রোডে জয়নগর এলাকায় ‘নিউ লাইফ হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডে’ এই ঘটনা ঘটে। সিজারিয়ান অপারেশনে মারা যাওয়া ওই প্রসূতির নাম ফজিলা আক্তার (৩৮)। তিনি সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার স্ত্রী।স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে ফজিলা আক্তারের সিজার অপারেশনের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এ সময় চিকিৎসক তাঁকে রেখে অন্য একটি ক্লিনিকে চলে যান। এতে অপারেশনের সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই পথে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই নারীর এর আগে একটি মেয়ে ও জমজ দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

এদিকে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত গাইনি চিকিৎসক শাহিন সুলতানা এবং অবেদন (অ্যানেসথেশিয়া) প্রদানকারী চিকিৎসক ইরফাত যথাযথ চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হন। তাদের দাবি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণসহ জটিলতা দেখা দিলেও প্রয়োজনীয় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই হাসপাতালে ঘটনার সময় সেবা নিতে আসা ৫০ বছর বয়সী প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী বলেন, ‘ফজিলা আক্তারকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর দুই চিকিৎসক চলে যান। মনে হয় তাঁরা সেলাই না করে সহকারীকে দায়িত্ব দিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর অপারেশন থিয়েটার থেকে হাসপাতালের পরিচালক আবির হোসাইন বের হয়ে জানান ফজিলার খিচুনি হচ্ছে, অবস্থা খারাপ। তাঁকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। এরপর একটি অ্যাম্বুলেন্স এনে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তিনি মারা গেলে লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।ফজিলার মৃত্যুর খবরের পর হাসপাতালে পুলিশ ও সাংবাদিকরা এসে ভিড় করলে মালিকপক্ষ সটকে পড়েন।’ ঘটনার খবর পেয়ে ঐদিন রাত ৯টার দিকে ওই হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, নেত্রকোনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল থেকে প্রায় ১২০ মিটার দূরে রাস্তার পাশে চার তালা একটি বাসায় বেসরকারি ওই হাসপাতালটির অবস্থান। নিচতলায় বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা- নিরীক্ষা করা হয়। দ্বিতীয় তলায় সিজারিয়ানসহ বিভিন্ন রোগীদের ভর্তি করা হয়। সেখানেই অপারেশন থিয়েটার। ওই সময় হাসপাতালে হাতে গোনা কয়েকজন রোগীকে পাওয়া যায়। হাসপাতালের মালিকপক্ষ, চিকিৎসক, নার্স কাউকেই পাওয়া যায়নি। শুধু একজন আয়াকে পাওয়া গেছে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আয়া হিসাবে কাম করি। এই বিষয়ে কিছুই কইতে পারতাম না। তবে এই ক্লিনিকে ফজিলার মৃত্যু হইছে না। ময়মনসিংহ হাসপাতালে নেয়ার সময় পথে মারা গেছে হুনছি।’

অন্যদিকে কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম হৃদয় বলেন, ‘ফজিলা আমার সম্পর্কে বড় বোন হন। চিকিৎসকের অবহেলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এটা কোনো হাসপাতালের পরিবেশ হলো? একটা বাসার মধ্যে হাসপাতাল বানাইয়া সিজার করতাছে। এহন জানলাম হাসপাতালটির কোনো অনুমোদন নাই। আজকে আমার বোন মরছে আরেক দিন আরেকজন মরবো। এসব কেউ দেখেনা। শুনতাছি টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে। আমি এর বিচার চাই।’ ঘটনার খোঁজ নিতে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ফজিলার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, তাঁর নবজাতক সন্তানকে কোলে নিয়ে বসে আছেন মধ্যবয়সী এক নারী। এ সময় ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে ফজিলার স্বামী ও স্বজনরা কথা বলতে অনিহা প্রকাশ করেন। তবে চারজন প্রতিবেশী জানান- শুনা যাচ্ছে বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে। জানতে চাইলে দুই চিকিৎসক ও হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন ধরেননি তারা কেউ। তবে এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল সরকার বলেন, ‘প্রসূতির মৃত্যুর খবর পেয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রেটিতে পুলিশ পাঠানো হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে জেলার সিভিল সার্জন গোলাম মৌলা বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2024 Zahidit News
Theme Customized By bdit.com.bd