সোহেল খান দূর্জয়- নেত্রকোনা :
নেত্রকোনার বারহাট্টায় পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের সময় দুজনকে আটক করেছে এলাকাবাসী। এ সময় ভুক্তভোগী সোহরাব হোসেনকে উদ্ধার করা হয়। পরে আটক দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হলে সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা গ্রামের মো. সিজন মিয়া (৩৫) ও মো. সুজাত মিয়া (৩৩)। এ ঘটনায় করা মামলায় সিজন মিয়া ও সুজাত মিয়াসহ সদর উপজেলার দুর্গাশ্রম গ্রামের শাহিন মিয়া (৩২) এবং বারহাট্টা উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের লাক মিয়ার ছেলে মো. মামুন মিয়া (৩৫) এবং আরও ২/৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। অপহৃত ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেনের (২৮) বাড়ি বারহাট্টা উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামে। তিনি ওয়ারেছ আলীর ছেলে। নৈহাটী বাজারে তিনি মোবাইল ব্যাংকিং ও মনোহারি ব্যবসা করেন।
এদিকে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার সকালে নিজের দোকানে কাজ করছিলেন সোহরাব। এ সময় প্রতিবেশী মামুন মিয়া মোবাইলফোনে কল করে তাকে জানান, ‘তোর বাড়িতে ঝগড়া লেগেছে, তাড়াতাড়ি বাড়িতে আয়।’ খবর পেয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হন সোহরাব। কিছুদূর যাওয়ার পর সিজন ও সুজাতসহ আরও কয়েকজন দুটি মোটরসাইকেল দিয়ে তার পথরোধ করেন। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেন এবং সোহরাবের নামে ওয়ারেন্ট আছে বলে হাতকড়া পরিয়ে তাকে তাদের মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। পরে পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলার আমবাড়ি এলাকার একটি জঙ্গলে নিয়ে সোহরাবকে মারধর করা হয় এবং ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ সময় অপহরণকারীরা মামুন মিয়ার সঙ্গে মোবাইলফোনে কথা বলে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর সোহরাবকে নিয়ে অন্যত্র যাওয়ার জন্য রওনা হয় অপহরণকারীরা। পথে আমবাড়ি বাজারে পৌঁছালে মোটরসাইকেল থেকে নেমে চিৎকার দেন সোহরাব। বাজারের লোকজন ছুটে এলে ঘটনাটি জানানো হয়। পরে স্থানীয়রা সোহরাবকে উদ্ধার করে এবং সিজন ও সুজাতকে আটক করে।
অন্যদিকে ডিবি পুলিশ সেজে স্বর্ণকার ভাইদের অপহরণের চেষ্টা, গ্রামবাসীর ধাওয়ায় ৪ ডাকাত আটকডিবি পুলিশ সেজে স্বর্ণকার ভাইদের অপহরণের চেষ্টা, গ্রামবাসীর ধাওয়ায় ৪ ডাকাত আটক। খবর পেয়ে কলমাকান্দা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যায়। রাতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আটক দুইজনকে বারহাট্টা থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় সোহরাব হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও একজোড়া হাতকড়া জব্দ করা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে তারা নিজেদের পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিল। তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলেও ‘পুলিশ’ লেখা রয়েছে। এ বিষয়ে ওসি চম্পক দাম বলেন, “ওই দুইজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।