সোহেল খান দূর্জয়- নেত্রকোনা :
নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন সড়কে টোকেন দিয়ে চলছে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি। জেলা শহর,আটপাড়া ও বারহাট্টা এবং মোহনগঞ্জ পৌরসাভার বিভিন্ন সড়কে টোকেন দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। চক্র গুলো নেত্রকোনা জেলা মটরযান কর্মচারী ইউনিয়ন,গোপালপুর বাজার,আসমা বাজার,আটপাড়া সেতু বাজার গোয়াতলা, ও মোহনগঞ্জ পৌরসাভার নাম টোকেনে ব্যবহার করে ভুয়া রসিদ তৈরি করে প্রতিদিন শত শত যানবাহন থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করছে। অভিযোগ রয়েছে, যুবক ও কিশোরদের দিয়ে জেলার বিভিন্ন সড়কে এই চাঁদাবাজি করাচ্ছে প্রতিটি এলাকার প্রভাবশালী মহল।আরও জানা যায়, দিন শেষে এই টাকার ভাগ যায় বিভিন্ন পকেটে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এই চাঁদা আদায় করছে বলে প্রতিটি এলাকার স্থানীয়দের অভিযোগ। সরেজমিনে আরও জানা গেছে,প্রতিটি রোডে এলাকাভিত্তিক গড়ে উঠেছে এসব চাঁদাবাজ। এমনকি তাদের গাড়ি পার্কিং করতে হলেও গাড়ির প্রকার ভেদে দিতে হয় আলাদা চাঁদার টাকা।
আরও জানা যায়, জেলার প্রতিটি পৌর এলাকার বিভিন্ন শাখা সড়কের চলাচলরত বিভিন্ন কোম্পানির কাভার্ড ভ্যান, বাড়ি নির্মাণের ইট, বালু, সিমেন্টবাহী ট্রাক, বাসাবাড়ি পালটানোর মালবাহী ট্রাক, মালবাহী পিকআপ, লেগুনা, অটোরিকশা থেকে ভুয়া রসিদ দিয়ে টোল আদায়ের নামে ব্যাপক চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। এতে করে জেলার প্রতিটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারাও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। চাঁদাবাজরা যানবাহনচালকদের হাতে একটি রসিদ ধরিয়ে দিচ্ছে তাতে শিরোনামে ‘মোহনগঞ্জ পৌরসভা,নেত্রকোনা জেলা মটরযান কর্মচারী ইউনিয়ন, সেতু
বাজার গোয়াতলা,গোপালপুর বাজার,আসমা বাজার, কর্তৃক ইজারাকৃত সব যানবাহনের টোল’ লেখা রয়েছে। ইজারাদার হিসেবে এসব টোকেনে, মোহনগঞ্জ পৌরসাভার ইজারাদার হিসেবে রাজিব উদ্দিন তালুকদারের নাম এবং অন্য গুলো টোকেনে শুধু প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।মোহনগঞ্জ পৌরসাভার টোকেনে লেখা রয়েছে প্রতিটি গাড়ির জন্য ১০০ টাকা, গোপালপুর বাজার টোকেনে কোনো নির্ধারিত টাকার অংক লেখা নেই, আসমা বাজার টোকেনে নির্ধারিত লেখা রয়েছে ১২০ টাকা, সেতুর বাজার গোয়াতলা টোকেনে লেখা রয়েছে ট্রাক লোড আনলোড-২০০, পিকাপ-১৫০, ঔষধের গাড়ি-১৩০, অটো টেম্পু-৮০, ভ্যান গাড়ি-৮০, হাতের ডেলিভার-৭০, মোটরসাইকেল বাইসাইকেল-৫০ টাকা, ও নেত্রকোনা জেলা মটরযান কর্মচারী ইউনিয়নের টোকেনে নির্ধারিত কোনো টাকার অংক লেখা নেই।
সরেজমিনে গিয়ে আরও জানা যায়,এসব চাঁদাবাজদের পক্ষে ৮-১০ জনের কিশোর গ্যাং দল নিয়মিত মোটা অঙ্কের হাজিরায় রাস্তায় এই চাঁদা আদায় করছে। জেলার প্রতিটি মোড়ে রাত-দিন দুই শিফটে টোল আদায়ের নামে এই চাঁদা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় প্রায়ই বিভিন্ন যানবাহনের ড্রাইভারদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে এই চাঁদাবাজরা। নেত্রকোনা শহরের বেশ কয়েকটি সড়কের যাত্রী ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাঁদা আদায়ের জন্য সড়কের মাঝখানে চলন্ত গাড়ি থামানোর কারণে সব সময় যানজট লেগেই থাকে। তাই সড়কে চলাচলরত যানবাহনের মালিক ও ড্রাইভাররা টোলের নামে এ ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য প্রশাসনের
কার্যকরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অপরদিকে জেলা শহর সহ জেলার প্রতিটি এলাকায় বিভিন্ন সড়কে চলছে লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন সিএনজি অটোরিকশা, মাহেন্দ্রা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন। এসব যানবাহন থেকে ব্যাপক চাঁদাবাজি হচ্ছে। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে যানজট সৃষ্টি করে চাঁদা আদায় করা হয়। এদিকে একাধিক অটোরিকশা ও লেগুনাচালক অভিযোগ করে বলেন,রাস্তায় ‘আমরা চাঁদা দিতে না চাইলে তারা দল বেঁধে লাঠি নিয়ে কখনো গাড়ির গ্লাস ভাঙে আবার কখনো-বা মারতে আসে। সারাদিন যতবার গাড়ি বের করা হয়, ততবারই এই চাঁদা দিতে হয়। এভাবে চাঁদাবাজি চললে আমরা এর বিচার চাইব কোথায়’? ইতিপূর্বে এই চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে জেলার বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ ও মিছিল করেছিল লেগুনা ও অটোরিকশা চালক ও মালিকরা।নেত্রকোনা সচেতন মহলের দাবী রাস্তায় চাদাবাজির এই বিষয়টি যেন প্রশাসনের নজরে আসে।