নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাবা—একটি শব্দ, যার মাঝে লুকিয়ে থাকে ত্যাগ, সংগ্রাম আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক বিশাল অধ্যায়। বাবা দিবস উপলক্ষে এক সন্তানের জীবনের গল্প উঠে এসেছে, যেখানে একজন শ্রমজীবী বাবার অক্লান্ত পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট।
তিনি জানান, তার বাবা পেশায় একজন শ্রমিক হলেও বাস্তবে তিনি ছিলেন একজন যোদ্ধা। পরিবারের সুখ-শান্তির জন্য সব সময় চেষ্টা করে গেছেন। ছোটবেলা থেকেই বাবার একটাই স্বপ্ন ছিল—ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ বানানো এবং উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে বড় পুলিশ অফিসার হিসেবে গড়ে তোলা।
কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। লেখাপড়ার প্রতি অনাগ্রহের কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। সামান্য পড়াশোনা করে একটি চাকরিতে যোগ দেন তিনি। জীবনের এই পর্যায়ে তিনি মায়ের প্রতি দায়িত্বশীল থাকলেও বাবার প্রতি তেমন খেয়াল রাখতে পারেননি—যা এখন তাকে ভীষণভাবে ভাবায়।
পরবর্তীতে বিবাহিত জীবনে দুই সন্তানের বাবা হওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, একজন বাবার প্রকৃত দায়িত্ব ও ত্যাগ কতটা গভীর। নিজের সন্তানের জন্য ঠিক তার বাবার মতোই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে উপলব্ধি করেন—বাবারা আসলে কিছুই চান না, তারা শুধু দিতে জানেন।
তিনি আরও বলেন, “বাবারা অভিনয়ে সেরা—তারা নিজেদের কষ্ট কখনো প্রকাশ করেন না, সবসময় হাসিমুখে পরিবারকে আগলে রাখেন।”
এক পর্যায়ে রাজনৈতিক জীবনের কথাও উঠে আসে। তিনি জানান, একটি দলের কর্মী হিসেবে কাজ করলেও কখনো ব্যক্তিগত লাভ বা কারো ক্ষতি করেননি। বরং নিজের আয়ের অংশ দিয়ে দলের জন্য ব্যয় করার চেষ্টা করেছেন।
তবে জীবনের এক ভয়াবহ অধ্যায় আসে ৫ আগস্টের একটি ঘটনার মাধ্যমে। হঠাৎ অজ্ঞাত নম্বর থেকে বাবার ফোন আসে, যেখানে তাকে কিছুদিন বাড়ির বাইরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মায়ের কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানা যায়, কিছু লোক তাকে খুঁজতে এসে পরিবারের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে এবং তাকে পেলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে।
পরিবারের দোয়া ও আল্লাহর রহমতে তিনি নিরাপদ থাকেন। ১০ দিন পর সন্তানের টানে বাড়িতে ফিরলে আবেগঘন দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। বাবার চোখে তখন শুধু অশ্রু—কোনো ভাষা ছিল না।
পরিস্থিতি আবারও খারাপ হলে পরিবারের অনুরোধে তিনি পুনরায় বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিদায়ের মুহূর্তে ছোট একটি ব্যাগ হাতে নিয়ে বের হলেও, তার বাবা নিজেই সেই ব্যাগ কাঁধে তুলে নেন এবং নিরাপদ পথে নদী দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে তাকে গাড়িতে তুলে দেন।
এই ঘটনাই আবার প্রমাণ করে—বাবা মানেই নিরাপত্তা, ভালোবাসা আর জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা।
শেষে তিনি সকলের কাছে তার বাবার জন্য দোয়া কামনা করেন এবং বলেন, “আমি আজ বুঝি—বাবা কী। আই লাভ ইউ বাবা।”
শেষ কথা: বাবা দিবস শুধু একটি দিন নয়, বরং বাবাদের ত্যাগ ও ভালোবাসা স্মরণ করার একটি উপলক্ষ। আমাদের উচিত মায়ের পাশাপাশি বাবার প্রতিও সমান গুরুত্ব ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা।