নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভোলার লালমোহনে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শাজাহান মিয়ার বাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ নাসিম ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর লালমোহন ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে লালমোহন ইউনিয়নের বিএনপি সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম ও ইউপি সদস্য নুরুল আমিন লাঠিয়ালের নেতৃত্বে ১০০-১৫০ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনী চেয়ারম্যান শাজাহান মিয়ার বাসভবনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
হামলাকারীরা এ সময় আসবাবপত্র, ফ্রিজ, এসি এবং আলমারিতে থাকা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জমি-জমার মূল দলিলপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
বাসার গৃহকর্মী আরাফাত ও মুন্নিকে বেধড়ক মারধর করে বের করে দেওয়া হয়। এছাড়া বাসার নিচের দোকানপাট ও চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয় ভাঙচুর করে মালামাল লুট করা হয়েছে বলে জানা গেছে। চেয়ারম্যান বাজারের অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের দোকানেও তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে অভিযুক্তরা।
চেয়ারম্যানের স্ত্রী হাসিনা খানম বলেন,
”সরকার পরিবর্তনের পর নাসিম ও সেলিম বাহিনীর তান্ডবে আমরা এখন ভিটেমাটি ছাড়া। তারা কেবল ঘরবাড়ি নয়, মসজিদের টয়লেট পর্যন্ত ভেঙে ফেলেছে। আমাদের প্রায় ৭ একর জমি ও দুটি মাছের ঘের দখল করে নিয়েছে। বর্তমানে তাদের অব্যাহত হুমকির মুখে আমরা সপরিবারে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবুল কাশেম ও তার স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তারা এনজিও থেকে ১৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে চেয়ারম্যানের জমি লিজ নিয়ে মাছ ও সবজি চাষ করেছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর অভিযুক্তরা তাদের ঘেরের মাছ লুট করে এবং প্রায় ৪০০টি কলাগাছ ও ৫০০টি পেঁপে গাছ কেটে ফেলে সবজি বাগান ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে এই আর্থিক ক্ষতির বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা মোহাম্মদ নাসিম ও তার সহযোগীরা দাবি করেন, তারা আসলে বাড়িটি রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের ভাষ্যমতে, সরকার পতনের পর বিক্ষুব্ধ জনতা চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা করতে এলে তারা বাধা দিয়ে ঘরটি রক্ষা করেন। তবে জমি দখল বা লুটপাটের বিষয়ে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ ঘটনায় হাসিনা খানম লালমোহন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। বর্তমানে বাড়ি ও দোকানের চাবি স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অভিযুক্তদের সতর্ক করা হয়েছে।
বর্তমানে চেয়ারম্যানের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট লিজগ্রহীতারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং তাদের সম্পদ ফিরে পেতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।