মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার লাউফুলা বাজারে কোনো প্রকার পূর্বঘোষণা বা বিকল্প ব্যবস্থা না করেই অন্যায়ভাবে দোকানপাট উচ্ছেদ, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৫ ঘটিকায় লাউফুলা বাজারের সর্বস্তরের দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে সংক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, ইজারাদার ও তার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অজুহাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে আসছিল।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও বক্তব্য:
ব্যবসায়ী ইউসুফ: তিনি জানান, “ইজারাদার সুজন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। গত ২০ আগস্ট গলির রাস্তা বের করার নাম করে কোনো নির্দেশনা ছাড়াই আমার প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়ে এখন সন্তান-সন্ততিদের লেখাপড়া ও সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
ব্যবসায়ী আমান আলী: কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার কাছ থেকে নগদ ৪ হাজার টাকা দাবি করা হয়। না দিলে দোকান ভাঙার হুমকি দেওয়ায় বাধ্য হয়ে টাকা দিই। অথচ আজ আমার দোকানটি ঠিকই ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আমি সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও পথে বসে গেছি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার ও সমাধান চাই।”
ব্যবসায়ী কদ্দুছ কামার ও আবু সোফিয়ান: বক্তারা ক্ষোভের সাথে জানান, “প্রতিবছর ইজারার হার অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেলেও বাজারে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। যে খাজনা আগে ছিল ১০ টাকা, তা এখন অন্যায়ভাবে ৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। কাদা, রোদ ও বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ব্যবসায়ীরা কেনাকাটা সামলালেও তাদের ওপর চলছে উচ্ছেদ নির্যাতন।”
ব্যবসায়ী সজীব: তিনি অবিলম্বে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর এ ধরনের অন্যায্য অপসারণ ও নিপীড়ন বন্ধের জোর দাবি জানান।
ইজারাদারের বক্তব্য:
অভিযোগের বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ইজারাদার সুজন সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত টাকা দাবি ও দোকান উচ্ছেদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব ঘটনার সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
মানববন্ধন থেকে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে সকল অবৈধ উচ্ছেদ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন