বিশেষ প্রতিনিধি, কামরুল ইসলাম:
কক্সবাজারের টেকনাফে ১৬ এপিবিএনের আওতাধীন ০৭টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীসহ একাধিক অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে অবৈধ অস্ত্রধারী, মাদক ব্যবসায়ী, অপহরণকারী, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও ডাকাত চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালিত হয়। ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ কাউছার সিকদারের দিক-নির্দেশনায় এবং পুলিশ সুপার মোঃ শাহাদাত হোসেন, পিপিএম-এর নেতৃত্বে এপিবিএন, জেলা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ব্যাটালিয়ন আনসার ও র্যাবের সমন্বয়ে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে জাদিমুড়া ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার হোসেন এবং চাকমারকুল ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মোঃ জিয়াউল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের বিস্তারিত ফলাফল:
নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্প:
ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী মোঃ রফিক (১৯), যিনি পেনাল কোডের ৩৯৯ ধারায় ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত, এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) এর ৭(ক) ধারায় ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামী আরফা খাতুন (৬০)-কে নিজ নিজ শেড থেকে গ্রেফতার করা হয়।
শালবাগান ক্যাম্প:
পেনাল কোডের ৩৭৯/৪১১ ধারার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী কামাল হোসেন (৩০)-কে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়।
লেদা ক্যাম্প:
প্রকাশ্যে জুয়া খেলার অপরাধে আব্দুর রহিম (৩০), মোহাম্মদ জাবের (২০) এবং শহিদুল ইসলাম (১৮)-কে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
জাদিমুড়া ক্যাম্প:
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণীর ১০(ক) ধারার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী আব্দুল্লাহ (৪৫)-কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সকল আসামীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সন্ত্রাস দমন এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ১৬ এপিবিএনের এ ধরনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।