আব্দুস সালাম,নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম (৪০) হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচী ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে তার পরিবার ও গ্রামবাসী।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। মানববন্ধন শেষে সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন নিহতের মা আফরোজা বেগম, ভাই মো. এনামুল হক, মো. আব্দুল ওয়াদুদ, আব্দুল মাজেদ, স্থানীয় বাসিন্দা নাসির হোসেন সহ অনেকে।
আন্দোলনকারীরা জানায়, গত ১লা জুন বিকেলে রেজাউল করিম তার বাড়ির পার্শবর্তী এলাকায় মাগুড়া ইউনিয়নের গড়েরপাড় গ্রামে তার ফুপুর বাড়িতে দাওয়াত খেতে যান। সেখানে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তার ফুপা আমিনুর রহমানের ভাইদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এসময় প্রতিপক্ষরা রেজাউল করিমকে মারধর করে এবং মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরদিন ২ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ২ জুন নিহতের ছোটভাই আব্দুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আট জনকে আসামী করা হয়।
সমাবেশে নিহতের ছোট ভাই আব্দুল ওয়াদুদ অভিযোগ করে বলেন, ‘এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামী মো. রাকিব ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, আব্দুল আজিজ, আক্তারুজ্জামান বিদেশে লোক পাঠানোর নামে ভিসা প্রতারণা ও থাই জুয়া খেলার সঙ্গে জড়িত। প্রতারণার মাধ্যমে তারা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অর্থের প্রভাব খাটিয়ে তারা আইনের আওতার বাইরে থাকার চেষ্টা করছেন।’ দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তার করা না হলে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
পরে আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারীরা। নিহত রেজাউল করিম মাগুড়া ইউনিয়নের দোলাপাড়া পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাবের ছেলে এবং দোলাপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পর দুইজন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যহত আছে। আশা করছি দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’