মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরঅনুপনগরের মোল্লাপাড়ায় মিজানুর রহমান (২২) নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় শাহিন আলী (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে শাহিন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার শাহিন আলী অনুপনগর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামের জুয়েল রানার ছেলে। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত মিজানুর রহমান (২২) একই এলাকার মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় শ্রমিক ছিলেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মিজানুরকে বাড়িতে দেখতে পান তার মা রুবেদা বেগম। পরে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টার দিকে রুবেদার প্রতিবেশী ও মামাতো ভাই কাউসার আলী এসে জানান, মিজানুর রহমানকে কে বা কারা হত্যা করে অনুপনগর সেবা ইটভাটার মধ্যে চলাচলের রাস্তায় ফেলে রেখেছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মিজানুরের মরদেহ দেখতে পান। পুলিশ জানায়, ৩০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে যেকোনো সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো চাকু দিয়ে মিজানুরকে আঘাত করে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা রুবেদা বেগম বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলা করেন। ১ অক্টোবর সদর মডেল থানার মামলা নম্বর-০১, জিআর-৪৯০/২০২৬, দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় সদর মডেল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. বেল্লাল হোসেনকে। পুলিশের দাবি, পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াসির আরাফাত এবং সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ একরামুল হোসাইন পিপিএমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে শাহিন আলীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বসতবাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। পরে শাহিন আলীকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সদর মডেল থানা পুলিশ।