আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
ভালো বেতনের ড্রাইভিং চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সৌদি আরবে পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া, বিদেশে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো এবং পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে বরগুনার আমতলীতে আপন স্বজনদের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী মো. রাসেল (২৮) বাদী হয়ে বরগুনার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (৩) মামলাটি দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, প্রধান অভিযুক্ত মো. সোবাহান হাওলাদার (৬০) সম্পর্কে বাদীর আপন চাচাতো মামা। আত্মীয়তার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি ও তার সহযোগীরা রাসেলকে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় পাঠানোর প্রস্তাব দেন। সেখানে মাসিক ৬৪ হাজার টাকা বেতনের চাকরির আশ্বাস দেওয়া হয়।
এই প্রলোভনে বিশ্বাস করে রাসেল গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুই দফায় মোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেন। কিন্তু সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তার জন্য অপেক্ষা করছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৫ মার্চ ২০২৬ সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর রাসেলকে কোনো ড্রাইভিং কাজে না দিয়ে মরুভূমিতে ভেড়া রাখার কাজে বাধ্য করা হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
এতেই শেষ নয়, তাকে মুক্ত করার কথা বলে দেশে থাকা তার বাবার কাছ থেকেও অতিরিক্ত ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর অবশেষে গত ১৩ মে ২০২৬ তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
দেশে ফিরে রাসেল অভিযুক্তদের কাছে তার টাকা ফেরত চাইলে তারা তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বাদী ও একজন সাক্ষীর পাসপোর্টও প্রধান আসামি অবৈধভাবে আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্ত তিনজন হলেন— ১. মো. সোবাহান হাওলাদার (৬০)
২. মো. সাদ্দাম হাওলাদার (৩৫)
৩. মোছা. সালমা বেগম (৩৭)
তারা সবাই আমতলী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী রাসেল প্রতারণার সুষ্ঠু বিচার, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হাতিয়ে নেওয়া টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে আত্মীয়তার সম্পর্ককে পুঁজি করে সংঘটিত এ ধরনের প্রতারণা সাধারণ মানুষের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।