স্টাফ রিপোর্টার:
কিশোরগঞ্জে দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও দুরবিন নিউজের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক ফরহাদ হোসেন রাজ। এ ঘটনায় জেলার সাংবাদিক সমাজ, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন মহলে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গতকাল রাত আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার পর কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকায়। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সাংবাদিক ফরহাদ হোসেন রাজ একটি সংবাদ সংগ্রহ ও কভারেজ শেষ করে রেলস্টেশন এলাকা থেকে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পরে স্টেশনের নিচে দুলাল টেইলার্সের পাশের সড়কে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা কয়েকজন সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক ফরহাদ হোসেন রাজের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এটি কোনো সাধারণ হামলা নয়, বরং তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশ ও অনুসন্ধানী তথ্য সংগ্রহের কারণে একটি চক্র তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এই হামলা সংঘটিত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযানে ঘটনার সাথে জড়িত জুম্মন নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অভিযুক্তদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের কাজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে আরও কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলেও সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে সাংবাদিক ফরহাদ হোসেন রাজের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হবে। তারা অভিযোগ করেন, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতেই এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই কিশোরগঞ্জের সাংবাদিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, একজন কর্মরত সাংবাদিকের ওপর প্রকাশ্যে হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না করলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের অন্যায়-দুর্নীতি ও অপরাধ তুলে ধরেন বলেই বারবার হামলার শিকার হচ্ছেন। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
সচেতন মহল মনে করছে, কিশোরগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় একজন সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মূল পরিকল্পনাকারীসহ সকল জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।