ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,
সামাজিক অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে কমিউনিটি পুলিশিং সভা। সভায় পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
সভায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য, ইমাম, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, আইনজীবী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
সভার শুরুতে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়। পরে নবগঠিত কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদকের বিস্তার, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া, পারিবারিক সহিংসতা, ইভটিজিং, চুরি, ছিনতাই, সড়ক নিরাপত্তা, অনলাইন প্রতারণা, গুজব ছড়ানো এবং সামাজিক অবক্ষয়সহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। এসব সমস্যা সমাধানে স্থানীয় জনগণ ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, শুধুমাত্র পুলিশের একার পক্ষে সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হলে প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্দেহজনক ব্যক্তি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দ্রুত পুলিশকে তথ্য দেওয়া, গুজবে কান না দেওয়া, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় নেতাদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বিশেষভাবে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকেই নয়, একটি পরিবার ও সমাজকেও ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি, সাইবার অপরাধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার রোধেও সম্মিলিত সচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণকে সম্পৃক্ত করে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পায়, স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হয় এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি ওয়ার্ড ও মহল্লায় কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও সক্রিয় করা হবে। নিয়মিত মতবিনিময় সভা, সচেতনতামূলক প্রচারণা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধে স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ জোরদার করা হবে। পাশাপাশি নারী, শিশু ও প্রবীণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই মাদক, সন্ত্রাস, চোরাচালান, কিশোর অপরাধ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে জেলা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত কিশোরগঞ্জ গড়ে তুলতে জেলা পুলিশের এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সভায় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।