1. admin@moheshpurnews24.com : admin :
May 17, 2026, 3:18 am
শিরোনামঃ
গাজীপুরের চান্দনায় ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, আলোচনায় টিএসআই সিদ্দিক রাজশাহীতে হলো চাকরি মেলা ২০২৬ চট্টগ্রামের কষ্ট দূর করাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গাইবান্ধায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মনির। সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় জয়দেব চন্দ্র শর্মা। সুজনের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত গাইবান্ধার পলাশ বাড়ী উপজেলায় মোটরসাইকেলসহ মাদক ব্যবসায়ী মিন্টু র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার রাজশাহীর বাঘায় সালিশি সিদ্ধান্ত অমান্য করার প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর মানববন্ধন বাকবিশিস’র সম্মেলনে বক্তারা শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণে সরকারের অতিরিক্ত এক পয়সা খরচ হবে না পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা, অভিযুক্ত যুবক গ্রেফতার
ব্রেকিং নিউজঃ
গাজীপুরের চান্দনায় ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, আলোচনায় টিএসআই সিদ্দিক রাজশাহীতে হলো চাকরি মেলা ২০২৬ চট্টগ্রামের কষ্ট দূর করাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গাইবান্ধায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মনির। সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় জয়দেব চন্দ্র শর্মা। সুজনের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত গাইবান্ধার পলাশ বাড়ী উপজেলায় মোটরসাইকেলসহ মাদক ব্যবসায়ী মিন্টু র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার রাজশাহীর বাঘায় সালিশি সিদ্ধান্ত অমান্য করার প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর মানববন্ধন বাকবিশিস’র সম্মেলনে বক্তারা শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণে সরকারের অতিরিক্ত এক পয়সা খরচ হবে না পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা, অভিযুক্ত যুবক গ্রেফতার

নেত্রকোনায় বিএডিসির ভেজাল বীজে খেসারত দিচ্ছেন কৃষকরা

  • Update Time : Saturday, May 16, 2026

সোহেল খান দূর্জয়- নেত্রকোনা :
ভালো ফলনের আশায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) থেকে প্যাকেটজাত ব্রি-৮৮ ধানের বীজ কিনে জমিতে রোপণ করেছিলেন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার হাওরপাড়ের কৃষক গোলাপ মিয়া। কিন্তু আশার বদলে এখন হতাশাই সঙ্গী—একই জমিতে দেখা মিলছে তিন-চার ধরনের ধানগাছ, যা নিয়ে মহাবিপদে তিনি। গোলাপ মিয়া বলেন, জমির ২০ শতাংশ ধান হয়েছে ব্রি-৮৮ জাতের, আর বাকি ৮০ শতাংশ ধান নানা জাতের। কোনো জাতের ধানগাছ উঁচু, আবার কোনোটা নিচু। কিছু ধান বৃষ্টির আগেই পাকতে শুরু করেছে। বাকি ধানগাছে তখন মাত্র শিষ বের হতে শুরু করেছে। এ কারণে সময়মতো ধান কেটে ঘরে তুলতে পারেননি তিনি। বৃষ্টি আর ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে গোলাপ মিয়ার ধানখেত। শেষে দ্বিগুণ দামে শ্রমিক দিয়ে ধান কেটে মাড়াই করে আধা পচা ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। ধানের মান ভালো না হওয়ায় বিক্রি করতে হয়েছে কম দামে।

এ ঘটনায় সম্প্রতি এই কৃষক ভেজাল বীজের কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে জেলা বিএডিসি কার্যালয়ের বীজ শাখায় অভিযোগ করেছেন। গোলাপ বলেন, ‘ভেজাল বীজের কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। প্রকৃত ব্রি-৮৮ ধান বৃষ্টি শুরুর আগেই পেকে গিয়েছিল। সঠিক বীজ দিলে পানি আসার আগেই ধান ঘরে তুলতে পারতাম। একই পরিস্থিতির শিকার উপজেলার মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের গলগলি মল্লিকপুর গ্রামের কৃষক অজয় কান্তি সরকার। তিনি বলেন, ‘বিএডিসির ব্রি-৮৮ ধানের বীজ কিনে ১৩ একর জমিতে রোপণ করেছিলাম। বীজে ভেজাল থাকায় কয়েক ধরনের ধান হয়েছে। ২০ শতাংশ ব্রি-৮৮ ধান বৃষ্টির আগেই পেকে গিয়েছিল। বাকি ৮০ শতাংশ নানা জাতের হওয়ায় সেগুলো তখন শিষ বের হওয়ার পর্যায়ে ছিল। আবার ধানগাছও ছোট-বড়, উঁচু-নিচু আকারের হয়েছে। যেগুলো আগে পেকেছে সেগুলো শিষ থেকে খসে মাটিতে পড়েছে। বাকিগুলো পাকার সময় পানিতে তলিয়েছে। এতে বিরাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’

এদিকে বারহাট্টা উপজেলার আশিয়ল গ্রামের কৃষক ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘ব্রি-৮৮ ধানের গাছ মূলত অনেকটা উঁচু হয়। এই কারণে সামান্য জলাবদ্ধতায় এই ধানের কোনো সমস্যা হয় না। অন্য ধানের গাছ ছোট হওয়ায় সামান্য পানিতে তলিয়ে যায়। এবার বিএডিসির ভেজাল বীজের কারণে মিশ্র ধরনের ছোট ধানগাছ হওয়ায় সামান্য পানিতেই তলিয়ে গেছে। বাড়ির সামনে এক একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। বিএডিসির ভেজাল বীজের কারণে ধান তলিয়ে গেছে। কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং এলাকার কৃষক তৌহিদ মিয়া, রোয়াইলবাড়ী এলাকার কৃষক শফিকুল ইসলাম এবং খালিয়াজুরী উপজেলার লেপসিয়া এলাকার কৃষক নয়ন মিয়া বিষয়টি তদন্ত করে ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। হাওরাঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারী বৃষ্টিপাত আর ঢলের পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে এবার জেলাজুড়ে কৃষকের ধান তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে এ ক্ষতির পরিমাণ সর্বোচ্চ। তাঁদের দাবি, বিএডিসির ভেজাল বীজের কারণে প্রতারিত হয়ে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর খেতে বোরো আবাদ করা হয়। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ টন ধান। এর মধ্যে হাওরে ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর খেতে বোরো আবাদ করা হয়। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২ লাখ ৯২ হাজার ৫৯০ টন। এর মধ্যে ভারী বৃষ্টি আর ঢলের পানিতে তলিয়েছে ১৮ হাজার ৪৭৮ হেক্টর জমির ধান। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৮৭৭ হেক্টর জমির ধান। এতে ৭৫ হাজার ৯৪৯ টন ধানের ক্ষতি হয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৭২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। মোট ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৭৭ হাজার ৩৬৩ জন।ভেজাল বীজের বিষয়টি স্বীকার করেছেন জেলা বিএডিসির বীজ শাখার উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জেলার প্রায় সব উপজেলাতেই এ সমস্যাটা পাওয়া গেছে। মাঠপর্যায়ে গিয়ে আমরা তদন্ত করে এসেছি। সারা দেশে বীজ সংগ্রহের জন্য আমাদের অনেকগুলো সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা ধানবীজে মূলত এ সমস্যাটা দেখা দিয়েছে। আমাদের চেয়ারম্যান স্যারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করছেন। তদন্তে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2024 Zahidit News
Theme Customized By bdit.com.bd