সোহেল খান দূর্জয়- নেত্রকোনা :
দুই তিনদিনের টানা ভারী বৃষ্টি এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় সোমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত কাঠ ও বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সেতুটি মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরের দিকে ভেঙে পানিতে তলিয়ে গেছে। এর ফলে দুর্গাপুর সদর থেকে শিবগঞ্জ বাজার চলাচলের প্রধান পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। আকস্মিক এই দুর্যোগে প্রতিদিনের যাতায়াতে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ব্রিজের অভাবে গত নভেম্বর মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে, স্থানীয়ভাবে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী সেতুটি নির্মাণে করে দেওয়ায় স্থানীয়রা যাতায়াত করে আসছিলেন। কিন্তু, অতি বৃষ্টির ফলে উজান থেকে হঠাৎ নেমে আসা ঢলে নদীর অস্থায়ী সেতুটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেতুটি পানিতে ডুবে যায়। সেতুটি ডুবে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চলতি এসএসসি পরীক্ষার্থী, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে হাসপাতালে ছুটতে থাকা রোগীরা। স্বাভাবিক সময়ে এই সেতু দিয়ে সহজেই মানুষ ও হালকা যানবাহন পারাপার হতে পারলেও, এখন ভরসা কেবল কয়েকটি ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ফেরি।
এ বিষয়ে স্থানীয় যুবক কিরণচন্দ্র বলেন, “এই কাঠের ব্রিজ দিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পারাপার করতো। ব্রিজটি ডুবে যাওয়ার কারণে দুর্ভোগ অনেক বেড়ে গেছে। ঠিকমতো যানবাহন নৌকা দিয়ে পারাপার করা যায় না। এখানে স্থায়ী ব্রিজ হলে মানুষের অনেক সুবিধা হতো।” বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি ছোট নৌকায় ও ফেরিতে পারাপারের ব্যবস্থা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। নৌকায় গাদাগাদি করে মানুষ ও যানবাহন পারাপার করতে গিয়ে চরম ঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে। ব্রীজের স্বেচ্ছাসেবক খান সুমন জানান, নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় সেতু পারাপার বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “ফেরি চালু হলেও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো ফেরিতে ওঠানামা করার সময় অনেক চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাচ্ছেন। দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায়ই।
এ বিষয়ে তিনি আরও জানান, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সঠিক সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্যোগে ছোট নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নদীর পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সেই ব্যবস্থাও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হঠাৎ সেতু ভেঙে যাওয়ায় নদীর ঘাটে এসে বিপাকে পড়ছেন পণ্যবাহী গাড়ি ও অটোরিকশা চালকরা। মালামাল নিয়ে পারাপারের অপেক্ষায় থাকা চালক হাসান মিয়া হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “গাড়ি আর মালামাল নিয়ে এসে দেখি নদীতে নৌকা চলছে, ব্রিজ ভেঙে গেছে। এখন নৌকা দিয়ে গাড়ি কীভাবে পার করব, তা নিয়ে মারাত্মক দুশ্চিন্তায় আছি।”অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাত্র চারটি ছোট ফেরি দিয়ে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের পারাপার কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। যুগের পর যুগ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্গাপুর-শিবগঞ্জ বাজার যাতায়াত করছেন দুর্গাপুরবাসী। বর্ষা মৌসুম বা পাহাড়ি ঢল এলেই তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সীমাহীন এই দুর্ভোগ থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাদের একটাই দাবি- সোমেশ্বরী নদীর ওপর অবিলম্বে স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণ করে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হোক।