সোহেল খান দূর্জয়-নেত্রকোনা :
স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার আর সেবার মানসিকতায় পাল্টে গেছে এক সময়ের দালালের দৌরাত্মে ভরা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার ৩নং পোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের চিত্র। ভূমি অফিস মানেই দিনের পর দিন হয়রানি,অতিরিক্ত টাকা আদায় ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম ভূমি অফিসের সেবাগ্রহীতাদের নেতিবাচক এসব ধারণা পাল্টে দিয়েছেন পোগলা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কামাল হোসেন খান। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,মাত্র কয়েকদিন আগে পোগলা ইউনিয়ন সহকারী (ভূমি) কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন কামাল হোসেন খান। তিনি পোগলা ইউনিয়নে যোগদানের পর থেকেই নানাবিদ কৌশলে ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত করে ভূমি সেবা গতিশীল করে তুলেছেন। ভূমি সেবা মানেই হয়রানি, ঘুষ, দালালচক্র কিংবা ঘুষের লোভ—জনমনে এমন ধারণা দীর্ঘদিনের। তবে নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামাল হোসেন খান সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছেন। তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন, সততা আর নিষ্ঠা থাকলে ভূমি অফিসের কাজও হতে পারে স্বচ্ছ, সহজ ও জনগণের জন্য সত্যিকারের প্রকৃত জনবান্ধব।
পোগলা ইউনিয়নের স্থানীয়রা জানান,ভূমি অফিসে আসা সাধারণ মানুষকে তিনি সব সময় হাসিমুখে স্বাগত জানান। হোল্ডিং ট্যাক্স, নামজারি, খাজনা পরিশোধ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব কাজ নির্দিষ্ট সময়ে, সরকারি নিয়ম মেনেই তিনি সম্পন্ন করে দেন। সবচেয়ে বড় কথা,কোনো ধরনের ঘুষ কিংবা অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে নয়—পুরো প্রক্রিয়াটিই চলছে একেবারে বিনামূল্যে ও স্বচ্ছভাবে। একজন ভুক্তভোগী মোঃ ওমর ফারুক বলেন,“আগে ভূমি অফিস মানেই ঘুষ দিতে হবে ও দালালের হাতে পড়তে হতো। খাজনা দিতে গেলেও অযথা ঝামেলা পোহাতে হতো। কিন্তু এখন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কামাল হোসেন খান থাকায় আমাদের কষ্ট অনেক কমে গেছে। আমরা নিয়ম অনুযায়ী খাজনার দিয়েছি, এবং নামজারী নিয়ে তার কাছে গেলে সে আমাকে বিনামূল্যে কাজ করে দিয়েছে, সে কোনো টাকা পয়সা নেয় নাই এই প্রথম জানলাম ভুমি অফিসে টাকা বাদেও কাজ হয় তারই প্রমাণ হলো পোগলা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা কামাল হোসেন খান ।
পোগলা গ্রামের শাহিন জানান, ভূমি সংক্রান্ত কাগজ পত্র ঠিক করতে আমি অফিসে গেলে কামাল হোসেন খান নিজেই সব দেখে দেন। কোথাও কোনো ভোগান্তি নেই। এমন সৎ কর্মকর্তা ইউনিয়ন পর্যায়ে থাকা সত্যিই আশার আলো।”ইউনিয়ন ভূমি-সহকারী কর্মকর্তা কামাল হোসেন খান বলেন, “মানুষ সরকারের কাছে আসে সেবা পেতে, কষ্ট পেতে নয়। আমার দায়িত্ব হলো নিয়ম অনুযায়ী তাদের সেবা দেওয়া। এজন্য বাড়তি কোনো অর্থ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। সবার সহযোগিতাতেই আমি এভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, তাঁর মতো সৎ ও কর্মঠ কর্মকর্তার কারণে ভূমি অফিস এখন সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ ভরসা ফিরে পাচ্ছেন। সরকারও ডিজিটাল ভূমি সেবা কার্যক্রম চালু করেছে। কামাল হোসেন খান সেই কার্যক্রমকে বাস্তবায়ন করছেন সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে। অনলাইনে খাজনা দেওয়া থেকেহ শুরু করে বিভিন্ন আবেদন গ্রহণ পর্যন্ত সবকিছু তিনি জনগণকে নিজে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। এতে স্বচ্ছতা যেমন বাড়ছে, তেমনি জনসাধারণের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, সৎ ও নিষ্ঠাবান এ কর্মকর্তার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করলে দেশের সর্বত্র ভূমি অফিসগুলো ঘুষ-দুর্নীতি মুক্ত হয়ে উঠবে।