ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে
রামচরণ মন্ডল (৫০) নামে এক ব্যাক্তির উপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও তার বাড়ীতেও হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রযেছে।
(২৬ এপ্রিল) শনিবার সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের কাশিমাবাদ কানাইডাঙ্গি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী রামচরণ হিন্দু-বৌদ্ধ-
খ্রিষ্ঠান ঐক্য পরিষদের কানাইপুর ইউনিয়ন শাখার সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে হামলায় আহত রামচরণের অভিযোগ করে বলেন, গত ২৫ এপ্রিল শনিবার সন্ধ্যায় পূর্ব
শত্রুতার জের ধরে একই এলাকার বাসিন্দা হোসেন আলী মির এর পুত্র মমিন আলী মির (৬০) এর নেতৃত্বে অন্তত ১০/১২ জনের একটি সংঘব্ধ চক্র আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ‘উপর থেকে অর্ডার আছে’’ বলে ঐ চক্রটি দেশিয় অস্ত্র ও লাঠিসোঠা নিয়ে রামচরনের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলাফুলা জখম করে। একপর্যায়ে তার ডাকচিৎকারে স্থানীয় জনতা এগিয়ে আসলে সংঘবদ্ধ চক্রটি প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে চলে যাওয়ার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় রামচরণকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে রামচরন হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন ঐ দিন রাতেও তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে একটি মন্দিরের মুর্তি ভেঙ্গে ফেলে বলে জানান তিনি। যদিও তার বয়োবৃদ্ধ পিতা দশরথ মন্ডল বাড়িতে থাকলেও মন্দির প্রাঙ্গনে হামলার শব্দে বেড়িয়ে এসে কাউকে দেখতে না পেলেও রাধা-গোবিন্দ মন্দিরের দুইটি মুর্তির হাত ভাঙ্গা অবস্থায় মাটিতে পরে থাকতে দেখতে পায়। রামচরন অভিযোগ করে আরো বলেন, হামলাকারিরা হয়তো আমাকে খুজতে বাড়িতে গিয়ে না পেয়ে তারা মন্দিরে হামলা চালিয়েছে। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আলতাফ হোসাইন জানান, মন্দিরে হামলার ঘটনা শুনে আমি ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা মিলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। রামচরনের উপর হামলার ঘটনা শুনতে পেলেও মন্দিরের মুর্তি ভাঙ্গার বিষয়ে কেউ কোন সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। তবে ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের সার্থে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার সঠিক কারন জানা যাবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।
এদিকে ভুক্তভোগী রামচরনের বোন ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ফরিদপুর একটি শন্তিপ্রিয় জেলা হলেও মন্দিরে হামলা চালিয়ে মুর্তি ভাংচুরের মত জঘন্য অপরাধিরা পার পেয়ে গেলে ভবিষ্যতেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মমিন আলী মির এর সাথে একাধীকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।