মোঃ আশরাফুল ইসলাম আকন্দ
স্টাফ রিপোর্টার
গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালে সন্তান প্রসবের পর প্রসূতি মায়ের কাছে নবজাতককে না দিয়ে একটি দালালচক্র নবজাতককে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে । ঘটনার প্রায় চার বছর পর ওই সন্তান জীবিত ও বেড়ে ওঠার খবর জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সন্তানের পিতা চাঁন মিয়া বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শনিবার গাইবান্ধা বালাসী সড়কে দালাল চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সন্তান ফেরত চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামের চাঁন মিয়ার স্ত্রী আকলিমা ২০২২ ইং সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৃতীয় সন্তান প্রসব বেদনা বাড়িতে ওঠার পর তাকে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ।
সেখানে সন্তান প্রসবের পর নবজাতককে মায়ের কাছে না দিয়ে গোপনে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, হাসপাতালকেন্দ্রিক একটি দালালচক্র নবজাতককে অন্যত্র বিক্রি করা হয়। ওই সময় আকলিমাকে জানানো হয়, তিনি মৃত সন্তান প্রসব করেছেন এবং শিশুটিকে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
শিশুটির কী কারণে মৃত্যু হয়েছে এ বিষয় অবগত করা হয়নি হাসপাতাল থেকে।
এ ভাবে দীর্ঘ ৪ বছর অতিবাহিতের পর শিশুটি জীবিত থাকার প্রমান পান মা আকলিমা বেগম। অভিযোগে হাসপাতাল কেন্দ্রীক তিন নারীর বিরুদ্ধে ঘটনার জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়।
এ বিষয় উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা সালু বলেন,উক্ত সন্তানের পিতা চাঁন মিয়া অভিযোগ দায়ের করেন পরে অভিযুক্ত তিন নারী মমতা রশিদা ও রহিমা ঘটনার জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করেন।
সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত সালিসে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ঘটনার বিষয়ে তথ্য দেন। প্রায় চার বছর পর শিশুটি জীবিত রয়েছে এবং বেড়ে উঠেছে—এমন তথ্য সামনে আসায় ঘটনাটি নতুন করে রহস্যের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার পর কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা সালুর উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে মমতা বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সালিশে মমতা বেগম শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনও বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
পরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ব্যবস্হা নিতে সুপারিশ করেন। ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসরাকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে আজ ফুলছড়ির গাইবান্ধা বালাসী সড়কের মদনেরপাড়া বাজারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে স্থানীয়রা আইনগতভাবে যাচাই করে প্রকৃত মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ।
অভিযোগের বিষয়ে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের গাইনী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাঃ তাহেরা আক্তার মনি বলেন, আমি রেজিষ্টার দেখে তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।