ওমর ফারুক বিপ্লব সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যথাযথ নিয়ম, নীতিমালা ও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে নিয়োগপ্রাপ্ত ৫৪ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী যোগদানের পর তাদের চাকরি বাতিলের উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন কর্মচারীরা।
বুধবার (১৫ জুলাই) হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মচারীরা বলেন, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। কিন্তু যোগদানের পর একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন অপতৎপরতার মাধ্যমে তাদের চাকরি বাতিলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
তারা বলেন, এই ষড়যন্ত্র শুধু ৫৪ জন কর্মচারীর কর্মসংস্থানই নয়, তাদের পরিবার-পরিজনের জীবিকাকেও হুমকির মুখে ফেলছে। তারা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে বৈধভাবে নিয়োপ্রাপ্ত কর্মচারীদের চাকরি বহাল রাখা এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
সংবাদ সম্মেলন শেষে হাসপাতাল চত্বরে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৫৪ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে চাকরি বাতিলের সব ধরনের অপচেষ্টা বন্ধ এবং তাদের কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এসময় বক্তরা বলেন, আমরা ৮-১০ বছর এই মেডিকেল হাসপাতালে সেচ্ছাসেবক হয়ে কাজ করে মানুষের সেবা করছি। সচ্ছ নিয়োগের ম্যাধমে আমরা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছি কিন্তুু আমাদের পেটে লাথি মারার জন্য কিছু আসাধু চক্র সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রপাকা- ছড়ানোর চেষ্টা করছে । মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরতি খোদা ও প্রধান সহকারীর দায়িত্বে থাকা মো. মোস্তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বক্তারা আরো বলেন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কোনো রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার স্থান নয় এটি মানুষের জীবন রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রতিষ্ঠান। এখানে যদি প্রভাবশালী মহল ভয়ভীতি, চাপ সৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তাহলে সাধারণ রোগীরা কীভাবে চিকিৎসা সেবা পাবেন।
কর্মচারীরা জানান, হাসপাতালের আউটসোর্সিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারি বিধি অনুযায়ী অনলাইনে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। সেই প্রক্রিয়ায় টি ফর ইন্টারন্যাশনাল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী গিয়াসউদ্দিন কার্যাদেশ লাভ করেন। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হাসপাতালের পরিচালক বা প্রধান সহকারীর ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা বা দায়ভার নেই বলে তারা দাবি করেন। একই সঙ্গে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় তারা বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী চক্রের কারণে হাসপাতালের সেবামূলক পরিবেশ নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। যারা হাসপাতালকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ২৪ শে জুলাই যোদ্ধা জিল্লুর রহমান, পরিচ্ছন্নতা কর্মী মো. রাজ হোসেন, সাইফুল, সাকিব হোসেন, মো. সাইফুল ইসলাম, আয়া ফাতেমা তুজ জোহরা, রুমানা, তুলি, রাকিবা খাতুন, লিফটম্যান ওয়াছিকুর, মুনির, আতাউর, ওয়ার্ড বয় শাহজালাল সবুজ, বেলাল, আবুল হোসেন, আরিফুল, সুমন, আফতাবুজ্জামানসহ আরও অনেকে। কর্মসূচি শেষে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরা হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষপ কামনা করেন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।