নিজস্ব প্রতিবেদক”
প্রকল্পে ১ শতাংশ, বিল উত্তোলনে আধা শতাংশ কমিশন নেওয়ার দাবি—ঘুষ লেনদেনের ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী দিপুল চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ঘুষ ও কমিশন নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে বিল উত্তোলন পর্যন্ত ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত কমিশন নেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি।
সম্প্রতি অভিযুক্ত সাবেক উপজেলা প্রকৌশলীর ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কাঁঠালিয়া পুলিশ মার্কেটের পেছনে একটি বাসায় বসে জেলার প্রভাবশালী এক ঠিকাদারের কাছ থেকে কয়েক বান্ডিল টাকা গ্রহণ করছেন ওই প্রকৌশলী। ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে আরও অনুসন্ধান চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের বিপরীতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ১ শতাংশ কমিশন এবং কাজের বিল উত্তোলনের সময় অতিরিক্ত আধা শতাংশ কমিশন নেওয়া হতো। এ ছাড়া এলজিইডি কার্যালয়ে বসেও কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তাদের মধ্যে হাসান, তরিকুল ইসলাম বুলবুল ও শহীদুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনের নাম জানা গেছে।
স্থানীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান বজায় রাখার পরিবর্তে অর্থের বিনিময়ে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হতো। এতে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ কাঙ্ক্ষিত মানে সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও কয়েকটি প্রকল্প অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত বা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং অনিয়ম হলে তার দায় শুধু ঠিকাদারের নয়, তদারকি ও অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদেরও। তাই অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
তবে দিপুল চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে, ঘুষ লেনদেনের ভিডিও, প্রকল্পের কাজের মান এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।