সোহেল খান দূর্জয়- নেত্রকোনা : নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ‘ভুয়া’ ওয়ারিশান সনদ তৈরির মাধ্যমে পিতার সম্পত্তি থেকে মেয়েদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাঘান ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সচিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এ নোটিশ প্রদান করা হয়। নোটিশে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।এর আগে বুধবার মাঘান গ্রামের খলিলুর রহমান এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাঘান ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মাসু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অর্থের বিনিময়ে ভুয়া ওয়ারিশান সনদ প্রদান করে আসছেন। একই ইউনিয়নের মাঘান গ্রামের নান্দু মিয়ার ওয়ারিশ হিসেবে স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে থাকার কথা থাকলেও প্রদত্ত সনদে দুই ছেলের নাম উল্লেখ করে মেয়ের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ওই সনদের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মেয়েকে পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়।
এছাড়া, একই গ্রামের আব্দুল বারেকের পরিবারে স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে থাকলেও ওয়ারিশান সনদে কেবল তিন ছেলের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; দুই মেয়ের নাম বাদ রাখা হয়েছে। উভয় সনদেই ইউনিয়ন প্রশাসক ও সচিবের স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানা গেছে। পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত নান্দু মিয়ার মেয়ে বিউটি আক্তার বলেন, ‘আমার নাম বাদ দিয়ে ওয়ারিশান সনদ দেওয়া হয়েছে জেনে আমি বিস্মিত হয়েছি। যারা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে আমাকে বঞ্চিত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উদ্যোক্তা মাসু মিয়া বলেন, ‘ওয়ারিশান সনদ দেওয়ার ক্ষমতা আমার নয়। চেয়ারম্যান ও সচিব কিভাবে সনদ দিয়েছেন, তারা ভালো জানেন। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
মাঘান ইউনিয়নের সচিব হিরণ মিয়া দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট দুটি ওয়ারিশান সনদ তারা প্রদান করেননি। অফিসের নথিপত্র যাচাই করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে তিনি জানান। তার ভাষ্য, কোনো আসল সনদ স্ক্যান করে জাল কপি তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। মাঘান ইউনিয়নের প্রশাসক ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সাধারণত উদ্যোক্তা ও জনপ্রতিনিধিরা ওয়ারিশান সনদের আবেদন উপস্থাপন করেন। ভুয়া সনদ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে অবগত হওয়ার পর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, ‘ভুয়া ওয়ারিশান সনদ প্রদানের অভিযোগ পাওয়ার পরই প্রশাসক ও সচিবকে শোকজ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।