1. admin@moheshpurnews24.com : admin :
August 19, 2026, 7:52 pm
শিরোনামঃ
জাল ওয়ারিশ সনদে পালিত পুত্রের বিরুদ্ধে জমি আত্মসাতের অভিযোগ শিবগঞ্জের নয়নী হত্যা মামলায় আসামি রইশুদ্দিনের জামিন বাতিল উপস্থিতির খাতায় শিক্ষক নিয়মিত, বাস্তবে অনুপস্থিত! কাগজে ২০৪ শিক্ষার্থী, সরেজমিনে ১৭; প্রতিবন্ধী স্কুল কাগজেই সব, বাস্তবে ফাঁকা হরিণাকুণ্ডুতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী মনসা পূজা ও ঝাপান খেলা অনুষ্ঠিত রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ দাবি মহেশপুরে মাদক সহ আটক ২ জন। দেশের জন্য ঐক্যবদ্ধ যুব সমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই: যুব ফুটবল টুর্নামেন্ট এ প্রধান অতিথি আব্দুল হাই। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ১০০ পিস ইয়াবাসহ আব্দুস সাত্তার নামে এক মাদক কারবারি আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনলাইন জুয়ার নীরব মহামারী প্রতিরোধে আলোচনা সভা শিবগঞ্জে পুলিশের অভিযানে স্কাফ সিরাপসহ গ্রেপ্তার ২
ব্রেকিং নিউজঃ
জাল ওয়ারিশ সনদে পালিত পুত্রের বিরুদ্ধে জমি আত্মসাতের অভিযোগ শিবগঞ্জের নয়নী হত্যা মামলায় আসামি রইশুদ্দিনের জামিন বাতিল উপস্থিতির খাতায় শিক্ষক নিয়মিত, বাস্তবে অনুপস্থিত! কাগজে ২০৪ শিক্ষার্থী, সরেজমিনে ১৭; প্রতিবন্ধী স্কুল কাগজেই সব, বাস্তবে ফাঁকা হরিণাকুণ্ডুতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী মনসা পূজা ও ঝাপান খেলা অনুষ্ঠিত রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ দাবি মহেশপুরে মাদক সহ আটক ২ জন। দেশের জন্য ঐক্যবদ্ধ যুব সমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই: যুব ফুটবল টুর্নামেন্ট এ প্রধান অতিথি আব্দুল হাই। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ১০০ পিস ইয়াবাসহ আব্দুস সাত্তার নামে এক মাদক কারবারি আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনলাইন জুয়ার নীরব মহামারী প্রতিরোধে আলোচনা সভা শিবগঞ্জে পুলিশের অভিযানে স্কাফ সিরাপসহ গ্রেপ্তার ২

উপস্থিতির খাতায় শিক্ষক নিয়মিত, বাস্তবে অনুপস্থিত! কাগজে ২০৪ শিক্ষার্থী, সরেজমিনে ১৭; প্রতিবন্ধী স্কুল কাগজেই সব, বাস্তবে ফাঁকা

  • Update Time : Wednesday, August 19, 2026

পঞ্চগড় সদর উপজেলার উত্তর জালাসী এলাকায় অবস্থিত দেশ প্রতিবন্ধী স্কুল নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। কাগজে-কলমে বিদ্যালয়টিতে ২০৪ জন প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়ে লেখাপড়া করছে এবং তাদের পাঠদানের জন্য রয়েছেন ২৫ জন স্টাফ। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বিদ্যালয়ে উপস্থিত পাওয়া গেছে মাত্র ১৭ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষককে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়টি প্রায় সময়ই বন্ধ থাকে। নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। অথচ বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতিদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত দেখানো হয়েছে এবং নিয়মিত স্বাক্ষরও রয়েছে। ফলে হাজিরা খাতার তথ্যের সঙ্গে বাস্তব উপস্থিতির মিল না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অত্যন্ত কম। ২০৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ১৭ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। একই সময়ে ২৫ জন স্টাফের মধ্যে মাত্র তিনজন শিক্ষককে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তসলিমা খাতুন বলেন, “আমি আমার শিফট অনুযায়ী পাঠদান করি। সবাই সপ্তাহে দুই দিন করে আসে। তবে হাজিরা খাতায় প্রতিদিনের স্বাক্ষর হয়।”

প্রধান শিক্ষকের এই বক্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষকরা যদি সপ্তাহে দুই দিন করে বিদ্যালয়ে আসেন, তাহলে হাজিরা খাতায় প্রতিদিন উপস্থিত দেখিয়ে স্বাক্ষর করা হয় কীভাবে? আর ২৫ জন স্টাফের বিপরীতে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেটিও স্পষ্ট নয়।

বিদ্যালয়ের পরিচালক জহিরুল ইসলাম। বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় প্রতিদিনের স্বাক্ষরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের পজিটিভ সংবাদ প্রচার করেন, যাতে আমাদের বিদ্যালয়টি অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং এমপিওভুক্ত হয়।”

তবে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় নিয়মিত উপস্থিতি দেখানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক জহিরুল ইসলাম এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

এদিকে, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি বিদ্যালয়ে যদি কাগজে-কলমে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক থাকলেও বাস্তবে তাদের উপস্থিতি না থাকে, তাহলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বিশেষ করে বিদ্যালয়ের অনুমোদন, শিক্ষার্থী সংখ্যা, শিক্ষক-কর্মচারীর তালিকা, নিয়মিত পাঠদান, হাজিরা খাতা এবং বিদ্যালয়ের কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও তদন্তের দাবি উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি থাকলে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই দেশ প্রতিবন্ধী স্কুলের কাগজপত্রে থাকা শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সংখ্যা, হাজিরা এবং বাস্তব উপস্থিতির বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষকরা শিফটভিত্তিক ও সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিন পাঠদান করেন। বিদ্যালয়টি অনুমোদন ও এমপিওভুক্ত করার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন পরিচালক জহিরুল ইসলাম। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত ও নথিপত্র যাচাই জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “বিশেষ বিদ্যালয়গুলোর স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তি না থাকায় এগুলো যথাযথভাবে তদারকি করা যাচ্ছে না। অধিকাংশ বিদ্যালয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অধীনে পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, বেতনসহ সব কার্যক্রম সংস্থার মাধ্যমেই হয়।

‘প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা, ২০১৯’ অনুযায়ী এসব বিদ্যালয়ের আলাদাভাবে নিবন্ধন প্রয়োজন। নিবন্ধন ছাড়া পরিচালনা বিধিসম্মত নয়। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করায় আমরা সহানুভূতির সঙ্গে বিষয়টি দেখি। এখন প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ম মেনে চলতে উৎসাহিত করা হবে।”

আসাদুজ্জামান আপেল

পঞ্চগড়

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2024 Zahidit News
Theme Customized By bdit.com.bd