মোঃ আশরাফুল ইসলাম আকন্দ
স্টাফ রিপোর্টার
গাইবান্ধার ফুলছড়িতে এক প্রবাসীর ৭ বছর বয়সী শিশু সন্তানকে ঘরে আটকে রেখে নৃশংসভাবে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৪ মার্চ (শনিবার) দুপুরে উপজেলার ৩নং উদাখালি ইউনিয়নের দক্ষিণ উদাখালি গ্রামে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে।
বর্তমানে শিশুটি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুর নাম মোঃ সাদিক মন্ডল (৭) সে দক্ষিণ উদাখালি গ্রামের প্রবাসী মোঃ সবুজ মন্ডলের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকালে শিশুটির মা মোছাঃ চাম্পা বেগম কেনাকাটার জন্য গাইবান্ধা শহরে যান।
বাড়িতে সাদিক ও তার বড় বোন সুমনা ছিল। দুপুরে সুমনা পাশের বাড়িতে গেলে সাদিক একা হয়ে পড়ে।
দুপুর ১টার দিকে সুমনা বাড়ি ফিরে দেখে ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো।
ভেতর থেকে অস্বাভাবিক গোঙানির শব্দ শুনে সে ঘরে প্রবেশ করলে সাদিককে মেঝেতে রক্তাক্ত ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে।
উদ্ধারকারীরা জানান শিশুটির ওপর চরম নৃশংসতা চালানো হয়েছে।
সাদিকের নাক ও কান দিয়ে রক্ত ঝরছিল বাম চোখ ও মাথায় ছিল গভীর জখমের চিহ্ন। এমনকি তার চিৎকার রোধ করতে মুখের ভেতর পলিথিন ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, ঘাতকরা তাকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা চালায়।
বর্তমান অবস্থা ও আইনি পদক্ষেপ
আহত সাদিককে প্রথমে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে সেখানে সে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
এই ঘটনায় শিশুর বড় চাচা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ খাজা মন্ডল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফুলছড়ি থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
শিশুর বাবা প্রবাসে থাকায় এবং মা হাসপাতালে ব্যস্ত থাকায় মামলা দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে পরিবার জানায়।
”অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে
এই নৃশংসতার সাথে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে
অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফুলছড়ি থানা।
মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগ
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা।
মানবাধিকার কর্মী ফারহান জানান, একটি ৭ বছরের শিশুর ওপর এমন অমানুষিক নির্যাতন মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি