ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,
পাকুন্দিয়ায় সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষানবিশ আইনজীবীর অভিযোগ, আদালতে মামলা
ফরহাদ হোসেন রাজ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের মাইজহাটি এলাকায় জমি দখলের চেষ্টা এবং দখলকৃত জমিতে থাকা ৩৭টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে অভিযোগকারী পক্ষ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টের শিক্ষানবিশ আইনজীবী আওলাদ হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে জমি দখল ও গাছ কাটার ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
আওলাদ হোসেনের দাবি, মাইজহাটি এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পক্ষ জোরপূর্বক ওই জমি দখলের চেষ্টা করে। এ সময় জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির ৩৭টি গাছ কেটে ফেলা হয়।
তিনি জানান, কল্যাণ নারায়ণ রায়ের পৈতৃক সম্পত্তি তিনি পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে দেখাশোনা করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, একই এলাকার বাসিন্দা এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ কার্যালয়ে কর্মরত হারাধন চন্দ্র দে ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় জমিতে থাকা ৩৭টি গাছ কেটে ফেলার ঘটনাও ঘটে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘটনার বিষয়ে ইতোমধ্যে আদালতে মামলা করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ ও আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় মো. আজাদ হোসেন বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের আমলগ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ মামলা করেন। মামলায় কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে পাকুন্দিয়া থানায় মামলাটি এফআইআর হিসেবে রুজু হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
আওলাদ হোসেন বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে। তবে জমি দখলের চেষ্টা ও গাছ কাটার ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, “জমির প্রকৃত মালিকানা ও আইনগত বিষয় আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। তবে জমি দখল ও গাছ কাটার ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।”
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হারাধন চন্দ্র দে বা অন্য আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে জমির প্রকৃত মালিকানা, গাছ কাটার ঘটনা এবং উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা আইনগত তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগকারী পক্ষের লোকজন আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে যাতে নতুন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।