ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,
আজ শুক্রবার মনিপুর ঘাট এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে ব্যাপক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। সকাল থেকেই মানববন্ধনকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় সচেতনতা ও প্রতিবাদের পরিবেশ। বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি রূপ নেয় এক সামাজিক আন্দোলনের বার্তায়।
মানববন্ধনে অংশ নেন এলাকার তরুণ সমাজ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, মুরুব্বি, ব্যবসায়ী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে মাদকের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান। কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, মাদক বর্তমানে সমাজের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে এবং এর ভয়াবহ প্রভাব যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণদের একটি অংশ মাদকের ফাঁদে জড়িয়ে পড়ায় এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। যদি এখনই শক্ত অবস্থান নেওয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত সচেতন নাগরিকরা বলেন, মনিপুর ঘাট এলাকায় মাদক ব্যবসা, সেবন ও বিস্তার রোধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তারা মাদক ব্যবসায়ী ও এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে এলাকায় নিয়মিত অভিযান, নজরদারি বৃদ্ধি এবং তথ্যদাতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তরুণ অংশগ্রহণকারীরা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সব স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। তারা মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিভাবকদের প্রতিও বিশেষ আহ্বান জানান। সন্তানদের প্রতি নজরদারি বাড়ানো, বন্ধুদের সাথে মেলামেশা ও চলাফেরা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে তরুণদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার দাবি জানানো হয়।
এলাকাবাসী জানান, তারা মনিপুর ঘাটকে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতেও মাদকবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা মাদকবিরোধী সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।