লেখক:- হুমায়ুন কবির।
বৈশাখের মেলা মানেই চারদিকে মানুষের ভিড়, ঢাক-ঢোলের শব্দ আর বাতাসা-খইয়ের মিষ্টি গন্ধ। অন্তরা ভীড়ের মধ্যে একটু বিরক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তার পরনের সুতি শাড়িটি বারবার ভিড়ের চাপে কুঁচকে যাচ্ছিল। তখনই হুট করে এক পশলা বৃষ্টির মতো শান্ত এক জোড়া চোখের সঙ্গে তার দেখা হলো। সে কবির। হাতে তার একগুচ্ছ কদম ফুল—যদিও কদম এ সময়ের নয়, কিন্তু কবিরের জেদ ছিল বৈশাখের প্রথম দিনে সে ভিন্ন কিছু করবে।
প্রথম আলাপ:-
কবির ভিড় এড়িয়ে অন্তরার সামনে এসে দাঁড়ালো। খুব সহজ গলায় বলল,
—”এই শাড়ির সঙ্গে লাল গোলাপ মানাতো ঠিকই, কিন্তু কদমে আপনাকে একটু অন্যরকম স্নিগ্ধ লাগছে।”
অন্তরা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। অচেনা একজনের এমন সাবলীল কথা শুনে রাগ হওয়ার কথা থাকলেও কেন জানি তার হাসি পেল। সে আলতো করে বলল,
—”বৈশাখে কদম পেলেন কোথায়?”
কবির হাসল, সেই হাসিতে রোদের ঝিলিক ছিল। সে বলল, “কিছু জিনিস খুঁজতে হয় না, পেয়ে যেতে হয়। যেমন আজ আপনাকে পেলাম।”
মেলা থেকে শুরু:-
পুরো বিকেলটা তারা মেলাতেই কাটিয়ে দিল। মাটির গয়না কেনা, নাগরদোলায় চড়া আর সরাচিত্র দেখা—সব মিলিয়ে সময়টা যেন ডানা মেলে উড়তে লাগল।
স্মৃতি: তারা দুজন মিলে মাটির সানকিতে পান্তা-ইলিশ খেল।
মুহূর্ত: ভিড়ের মাঝে যখন অন্তরা হারিয়ে যেতে নিচ্ছিল, তখন কবির খুব সাবধানে তার হাতের কবজি নয়, বরং শাড়ির আঁচলটা আলতো করে ধরল যাতে সে পিছিয়ে না পড়ে।
অন্তরার মনে হলো, এই মানুষটির সঙ্গে তার পরিচয় মাত্র কয়েক ঘণ্টার নয়, বরং কয়েক বছরের।
শেষ বিকেলের প্রতিশ্রুতি:-
সূর্য যখন লাল আভা ছড়িয়ে ডুবতে শুরু করেছে, তখন রমনার বটমূলে বসে কবির একটা চিরকুট এগিয়ে দিল অন্তরার দিকে। তাতে লেখা ছিল:
”নতুন বছরে নতুন করে তোমায় চেনা, পুরানো সব দুঃখ ভুলে হোক লেনদেনা।
পহেলা বৈশাখে শুরু এই চলার পথ, থাকবে তুমি আমার পাশে, এই আমার শপথ।”
অন্তরা চিরকুটটা পড়ে কবিরের দিকে তাকাল। কোনো কথা না বলে সে নিজের হাতটি কবিরের হাতের ওপর রাখল। নতুন বছরের প্রথম দিনটি শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা বদলাল না, বরং দুজনের জীবনের একটি নতুন অধ্যায় লিখে দিল।
নববর্ষের এই মিলন মেলা কেবল উৎসবই ছিল না, ছিল দুটি হৃদয়ের এক হয়ে ওঠার গল্প। শুভ নববর্ষ.